ঘুম কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ঘুম কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বেশির ভাগ মানুষই রাতে পর্ন দেখে। এ সময়টাই যেন একটা ট্রিগারের মতো কাজ করে। মনে মনে কন্ডিশনিং চলতে থাকে। সবাই ঘুমিয়েছে, নেট কানেকশন আছে, আমি একা আছি, কেউ দেখছে না, ঘুমও আসছে না, তাহলে একটা ঢু মেরে আসি পর্ন সাইটে।
.
এই একটু দেখতে গিয়েই অনেকের রাত পার হয়ে যায়। পরের দিনের স্কুল, কলেজ কিংবা অফিসের কাজের বারোটা বেজে যায়। সব হতাশার গ্লানি নিয়ে কাটাতে হয় একটা দিন। আচ্ছা, কেউ কি পর্ন দেখে একটা রাত বা কয়েক ঘন্টা অপচয় করার আগে কি একটাবারও ভাবে যে পরের দিন তার কত গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। রাতে ঘুম না হলে, পর্ন দেখে হস্তমৈথুন করলে পরের দিনটা যে হতাশায় কাটবে এ ব্যাপারটা কি একবারও মাথায় আসে? বেশির ভাগ সময়ই আসে না। ঠিক না? কিন্তু পরের দিন আপনি ঠিকই ভাবেন, ইশ! যদি সময়মত নেট কানেকশনটা অফ করে ঘুমিয়ে যেতাম, তাহলে নিশ্চয়ই এমনটা হত না।
.
জীবনে একবার হলেও পর্ন দেখেছে কিংবা মধ্যরাতে দেখার অভ্যাস আছে এমন সবার জন্যই রাত জাগা ঝুঁকিপূর্ণ। অর্থাৎ, এ সময়ে পর্ন দেখার সব কন্ডিশন মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই তাড়াতাড়ি ঘুমের অভ্যাস করা খুব খুব গুরুত্বপূর্ণ। যারা পর্ন দেখেন না তাদের জন্যও। এতে আপনার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, সারাদিনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং অবশ্যই পর্নও দেখা হবে না।
.
পর্যাপ্ত পরিমাণে এবং সঠিক সময়ে ঘুম শুধু আসক্তিই না অন্যান্য মানসিক সমস্যা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাহলে আসুন কিছু কৌশল জেনে নেওয়া যাক যার মাধ্যমে তাড়াতাড়ি ঘুমের অভ্যাস গঠন করা সম্ভব[১, ২]-

১) প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং একই সময় ঘুম থেকে উঠুন।

২) চেষ্টা করুন রাত জেগে কাজ না করতে এবং সকালে দ্রুত উঠতে।

৩) সন্ধ্যার পর চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ করুন।

৪) ঘুমের ঠিক আগে ভারী খাবার খাবেন না।

৫) রাতের খাবার ঘুমের অন্তত ২-৩ ঘন্টা আগে গ্রহন করুন।

৬) ঘুমের আগে সম্ভব হলে কুসুম গরম পানিতে গোসল করে নিন।

৭) বিছানাকে ঘুমানো বাদে অন্য কাজে (যেমন: খাওয়া, টিভি দেখা, গল্প করা) ব্যবহার করা পরিত্যাগ করুন।

৮) ঘুমানোর সময় আরামদায়ক পোশাক পড়ে ঘুমাতে যান।

৯) ঘুমানোর পরিবেশ পরিষ্কার ও আরামদায়ক রাখুন।

১০) বিছানায় শুয়ে ফোন / টিভি / ট্যাব ব্যবহার করবেন না[৩]।

১১) ঘুম না আসলে, একঘণ্টা পরে উঠে ২০ মিনিট হেঁটে এসে আবার শুয়ে দেখুন।

১২) দিনে সামান্য হলেও শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করুন[৪]।

১৩) দিনে ৩০ মিনিটের বেশি ঘুমাবেন না।

১৪) ঘুমানোর আগে ঘরের বাতি বন্ধ করুন।

১৫) রাত ৯-১০টার মধ্যে সব ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করুন[৫]।

১৬) নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্মবান হন[৬]।
.
তাড়াতাড়ি ঘুমের অভ্যাস গঠনের মাধ্যমে আপনার ব্রেইন পুনর্গঠিত হবে[২]। ফলে এতদিন ধরে গড়ে ওঠা আসক্তির চক্রের অবসান ঘটবে।
.
#teamFAD
————-
[১] লাইফস্পিং ইন্সটিটিউট

[২] বই: ঘুরে দাঁড়াও, লেখক: ওয়ায়েল ইব্রাহিম

[৩] বিছানায় শুয়ে নিয়মিত অন্য কাজ করা হলে ঘুমানোর সময় আমাদের ব্রেইন সহজে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয় না।

[৪] ব্যায়াম করলে সন্ধ্যার আগে করা উচিত। রাতে ব্যায়াম করলে ঘুমের সমস্যা হতে পারে।

[৫] ৯-১টার ঘুম সবচেয়ে বেশি কার্যকরী। তাই এ সময়ের মধ্যে যত তাড়াতাড়ি সব ডিভাইসের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে ঘুমিয়ে পড়বেন, আপনি মানসিক ও শারীরিকভাবে ততো বেশি উপকৃত হবেন।

[৬] মানসিক স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে ভালো ঘুম হয় না।

COMMENTS

WORDPRESS: 0