অভ্যাস ও আসক্তি

অভ্যাস ও আসক্তি

২০০৬ সালে ডুক ইউনিভার্সিটির কয়েকজন গবেষক মানুষের অভ্যাস নিয়ে একটি পেপার পাবলিশ করে। সেই গবেষণায় দেখা যায়, মানুষ প্রতিদিন যে কাজগুলো করে তার ৪০ শতাংশেরও বেশি কাজ হচ্ছে তাদের অভ্যাস। অর্থাৎ কাজগুলো করতে তেমন কোন চিন্তা ভাবনা বা রুটিন করা লাগে না। শুধু পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেই মস্তিষ্ক সক্রিয় হয়ে যায় আর সেই কাজগুলো করার জন্য রিমাইন্ডার দিতে থাকে।

কিন্তু জীবনে গড়া এ অভ্যাসগুলোর মধ্যে যদি পর্নোগ্রাফি নামক কালসাপ জায়গা করে নেয় তাহলে সে আপনার অন্যান্য ভাল অভ্যাসেরও বারটা বাজিয়ে ছাড়বে, এক একটা ছোবলে লণ্ডভণ্ড করে ফেলবে সারাদিনের পরিকল্পনা।

সাধারণত প্রতিটি অভ্যাসই গড়ে ওঠে নির্দিষ্ট সময় এবং পরিস্থিতিকে ঘিরে। যেমনঃ রাতে ঘুমানো, অবসরে বই পড়া, প্রতি ওয়াক্তে নামায পড়া, বিকেলে খেলা বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া ইত্যাদি। এর মাঝে যেদিন আপনি পর্ন দেখেন এবং মাস্টারবেট করেন, সেই দিন কতোটা বাজে ভাবে কাটে। আর যদি সকালটাই শুরু হয় এই ড্রাগ দিয়ে, তবে সারাটা দিনই ভেস্তে যায়। সহজে মন বসে না কোন ভাল কাজে । মন বসবেই বা কিভাবে। ভাল কাজ করতে যে অন্তর লাগে সে অন্তরেই পর্ন দাগ ফেলে দেয়। এক একটা পর্নোগ্রাফিক ইমেজ দানব আকার কালো ছায়া হয়ে গিলে ফেলে আত্মবিশ্বাসকে। মুহূর্তেই যেন সবকিছু শূন্য হয়ে যায়। নিজেকে দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব মনে হয়।

এরচেয়েও ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে, পর্নোগ্রাফির আসক্তির ফলে একজন ব্যক্তির আচরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, গঠিত হয় অন্যান্য বাজে অভ্যাস, যা এক সময় আসক্তির রূপ ধারণ করতে পারে। পর্ন আসক্তির ফলে অন্তরে যে হতাশা সৃষ্টি হয়, সে হতাশা থেকে মুক্তিলাভের জন্য কেউকেউ অন্যান্য আসক্তিকর ড্রাগ নেয়া শুরু করে, পতিতা গমন করে, কিংবা কয়েক মাস পরপর গার্লফ্রেন্ড খোঁজে। কিন্তু দিন শেষে এ এগুলো আসক্তির মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। আস্তে আস্তে একজন আসক্ত ব্যক্তি তার আচরণ, অভ্যাস, সময়, দায়িত্ব সবকিছুর প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে। মাঝেমাঝে ভুলেই যায় যে একটা দিন সে কীভাবে কাটাচ্ছে? তার জীবনের উদ্দেশ্য কি? সে আসলে কোথায় যাচ্ছে?

হ্যাঁ। এভাবেই একটি আসক্তি একজন ব্যক্তির জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

আসক্তি থেকে মুক্তির সবচেয়ে কার্যকর পন্থা

আবারও বলছি, পর্ন আসক্তি একজন ব্যক্তির আচরণ এবং অভ্যাসে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই নিজের আচরণের পরিবর্তনগুলোর দিকে খেয়াল করা উচিত, প্রতিদিন কোন সময় আপনি কি করে কাটাচ্ছেন চিন্তা করেন। পর্ন আসক্ত বেশিরভাগ ব্যক্তিই প্রতিদিন নিজের জীবনে এমন কিছু কাজ করে সময় নষ্ট করতে থাকে যা সে আসলেই করতে চায় না। তাই পর্ন আসক্তি সহ যে কোন আসক্তি থেকে মুক্তি লাভের জন্য নতুন ভালো অভ্যাস গঠন করাটাই সবচেয়ে কার্যকর পন্থা। আপনার জীবনের প্রতিটি অবসর যদি ভাল অভ্যাস দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে, তবে পর্ন দেখার কথা কি আর মাথায় আসতে পারে? কক্ষনো না।

কাজেই মনে রাখবেন,

“আসক্তি থেকে কখনোই পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব না, যতক্ষণ না আসক্তিকে নতুন কোন ভাল অভ্যাস দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়।”

COMMENTS

WORDPRESS: 0