জীবনটা আপনার! সিদ্ধান্তও আপনাকেই নিতে হবে।

জীবনটা আপনার! সিদ্ধান্তও আপনাকেই নিতে হবে।

আপনি পর্ন আসক্তি থেকে মুক্তি চান। আপনি বুঝতে পারছেন যে এ আসক্তি ক্রমেই আপনার চিন্তাধারা, আচরণে প্রভাব ফেলছে। কাজে মনোযোগ কমে যাচ্ছে, প্রিয়জনদের সাথে সম্পর্কের বাঁধনগুলো মাকড়শার জালের ন্যায় দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, জীবনে বেঁচে থাকার যে উদ্দেশ্য, যে স্বপ্নকে আপনি দিনের পর দিন অন্তরে লালন করেছেন, সে স্বপ্নটাও ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে দূর আকাশের কাল মেঘে ঢাকা পড়ে যাওয়া সূর্যের মত। “আত্মবিশ্বাস” শব্দটা শুনলেই মনে হচ্ছে এমন কোন ফসিল, যার দর্শন শুধু জাদুঘরেই পাওয়া যায়। এরপরও আপনি এই আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে চান। ভুলে যেতে চান শেষবার কি হয়েছিল। আবার স্বপ্ন দেখতে চান নতুন করে।
.
কিন্তু কিছুদিন যাবার পর আবার একই ভুল, একই সমস্যা থেকে যৌনক্ষুদা জাগ্রত হয়। চাইলেও অন্য কোন চিন্তা করা যায় না। বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো ছিটানো সেক্সচুয়াল ইমেজগুলো বার বার ঘুরে ফিরে ব্রেইনের একই প্যাথওয়েতে হিট করে আর জানান দিতে থাকে, “পর্ন তোমাকে আজ দেখতেই হবে, দেখতেই হবে, দেখতেই হবে…”। এ যেন এক অন্য সত্ত্বা! আসক্ত সত্ত্বা!

অথচ আপনি চাইলেই এই আসক্ত সত্ত্বাকে দূরে ঠেলে দিতে পারতেন। কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক কাজটা না করা এবং প্রপার প্ল্যানিং এর অভাবে বার বার ব্যর্থ হয়ে নিজেকেই সেই আসক্ত সত্ত্বার সাথে মিশিয়ে ফেলেছেন।

এ সমস্যার কি কোন সমাধান নেই?

সমাধান অবশ্যই আছে। এমনকি আসক্তির সবচেয়ে খারাপ অবস্থান থেকেও উওরণের পথ আছে। কিন্তু আপনার সেই পথ ধরে হাঁটা লাগবে। পথ দেখিয়ে দেবার পরও যদি আগের অবস্থানে বসে থেকে শুধু চিন্তা করেন,
কোন লাভ হবে না। পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে আসক্তির মাত্রা যার যত বেশি তাকে তত বেশি কষ্ট সহ্য করতে হবে। ভাল লাগা কিছু কাজ ত্যাগ করতে হবে। আমি জানি এই কথাগুলো কার কার কাছে খুব কঠিন মনে হচ্ছে। এমনকি আপনি হয়ত এটাও ভাবছেন যে, আমি তো আগে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলাম, ঘুরে ফিরে সেই একই অবস্থায় পড়েছি।

আপনাকে কিছু কথা মনে করিয়ে দিতে চাই…

শীতের সকাল। কম্বল মুড়ি দিয়ে আরামে ঘুমচ্ছেন। হঠাৎ এলার্ম এর আওয়াজ কানে আসল। গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেল। স্কুল! ৮:০০ টা বাজে। কিন্তু কম্বল ছেড়ে উঠা যে বড়ই কঠিন কাজ। তারপরও কিন্তু আপনি ঘুম থেকে উঠেছিলেন। যারা সকাল সন্ধ্যা অফিস করেন তারা সকালে বাসা থেকে গোসল করে বের হন। শীতের সকাল বলে আপনি কিন্তু বিছানায় শুয়ে থাকেননি। আপনার যে সত্ত্বা আপনাকে বার বার ঘুমানোর উপদেশ দিচ্ছিল সেই সত্ত্বাকে আপনি গলা টিপে মেরে ফেলেছিলেন। কারণ আপনার ইচ্ছাশক্তি।
.
আপনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে ভাল জব পাওয়ার জন্য ভাল স্কিল লাগবে, রেজাল্ট লাগবে। তাই আপনি আধা জল খেয়ে মাঠে নামেন। অথচ আপনিই সেই মানুষটা, যে প্রথমে এতো কষ্ট সহ্য করতে চায়নি, কম্বল ছেড়ে শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে অফিসে যাওয়ার কথা কখনো চিন্তাও করেনি। কিন্তু আপনার বিশ্বাস আপনাকে বদলে দিয়েছে।
.
পর্ন আসক্তি এমন এক সমস্যা যা আপনার পড়াশুনা, জব, পারিবারিক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব সবকিছুতে প্রভাব ফেলে। আপনি নিজেও টের পাচ্ছেন ব্যাপারটা। কিন্তু সঠিক পদক্ষেপগুলো না নেওয়ার কারণে বার বার আপনি প্রবৃত্তির কাছে হার মানছেন। অন্য যে কোন কাজে সফলতা অর্জনের মত এক্ষেত্রেও আপনাকে কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।
বন্ধু নির্বাচনঃ আপনি চান এই আসক্তি থেকে মুক্ত হতে, কিন্তু আপনার এমন কিছু বন্ধু আছে যারা সারাক্ষণ মেয়ে, ড্রাগ, পর্ন নিয়ে কথা বলতে থাকে। আপনি তাদের ভাল হবার উপদেশ দিতে পারেন। এরপরও যদি তারা ঠিক না থাকে সেক্ষেত্রে তাদের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে। শুধুমাত্র যে বন্ধুরা আপনাকে এই আসক্তি থেকে বের হতে সাহায্য করবে, তাদের সাথেই চলতে হবে।
.
ফেসবুক পেইজ এবং ইউটিউব চ্যানেলঃ ফেসবুকে মডেলদের পেইজে আনলাইক, ছেলে VS মেয়ে টাইপ গ্রুপ থেকে অবসর নিতে হবে। বাজে অ্যাড থেকে রেহাই পাবার জন্য অ্যাডব্লক ইউজ করতে হবে।
দৃষ্টিঃ রাস্তাঘাটে, বিলবোর্ডে আকর্ষণীয় মেয়ে দেখলেই কামনার দৃষ্টিতে তাকান যাবে না। এক্ষেত্রেও ব্রেইনে ডোপামিন রিলিজ হয়, যা পর্নের রিওয়ার্ড প্যাথওয়েতে হিট করে। ফলে যৌন সন্তুষ্টি পাবার জন্য আপনি রাস্তায় নির্লজ্জের মত একটার পর একটা মেয়ে দেখতেই থাকেন। এটাই পরে পর্ন দেখার জন্য সবচেয়ে বড় ট্রিগার হিসেবে কাজ করে।
এ ব্যাপারগুলো ছাড়াও মানসিক অশান্তি, ভঙ্গুর সম্পর্ক, আত্মসম্মানবোধের অভাব, ছোটবেলায় পাওয়া কোন মানসিক আঘাত কিংবা উগ্র জীবনযাত্রা এ আসক্তির ক্ষেত্রে অনেক বড় প্রভাব ফেলে। এ সমস্যাগুলো সমাধান করলে আসক্তি থেকে বের হওয়াটাও সহজ হবে।
.
সবশেষে একটা কথাই বলতে চাই। কোন কাজে সফলতার পেছনে থাকে ইচ্ছাশক্তি এবং দৃঢ় বিশ্বাস। পর্ন আসক্তি থেকে পরিত্রাণ পাবার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এমন। আপনি চান এই আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে। কিন্তু পারছেন না। যারা খুব বেশি পরিমাণে আসক্ত তাদের ক্ষেত্রে প্রথম প্রথম অনেক কষ্ট হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে আপনার অন্তরে যদি পর্নের প্রতি পর্যাপ্ত ঘৃণা থাকে এবং এই আসক্তি থেকে মুক্ত হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকে তাহলে আপনার কাজেই প্রমাণ হবে যে আপনি কতটা সিরিয়াস। আপনার প্রতিদিনের রুটিন, চিন্তা, দৃষ্টি সবকিছুতে পরিবর্তনের ছাপ দেখা যাবে। এজন্য যদি ইউটিউব, ফেসবুক ব্রাউজ বন্ধ করা লাগে আপনি তা করবেন, খারাপ কাজে প্ররোচনা দেওয়া বন্ধুদের জীবন থেকে ছাটাই করে ফেলবেন, এমনকি মোবাইল ছাড়া থাকা দরকার হলেও আপনি তা করবেন, নিজের ভালর জন্যই করবেন। মানুষ যা বলার বলুক। কোন ব্যক্তি ভাল? যে আসক্ত কিন্তু আসক্তি থেকে মুক্তি চায় না, সে? না কি যে মুক্তি চায় সে? জীবনটা আপনার। সিদ্ধান্তও আপনাকেই নিতে হবে।

COMMENTS

WORDPRESS: 0