পর্ন আসক্তি কী হালকাভাবে নেওয়ার মতো বিষয়?

পর্ন আসক্তি কী হালকাভাবে নেওয়ার মতো বিষয়?

সিঙ্গেল লাইফ…
এখন পর্ন না দেখলে কখন দেখব!
বিয়ের পর কি এসবের সময় হবে?

এ ধরনের কথা বলা মানুষগুলো পর্ন আসক্তিকে খুবই হালকাভাবে দেখে। মনে করে বিয়ের আগ রাত পর্যন্ত দেখেও বিয়ের পর এক সিদ্ধান্তে পর্ন ছেড়ে দেওয়া সম্ভব। অন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

অথচ বিয়ের পরও পর্ন ছাড়তে পারেননি এমন অসংখ্য কেস আমাদের আশেপাশে আছে। তারাও বিয়ের আগ পর্যন্ত পর্ন আসক্তি নিয়ে খুব একটা চিন্তিত ছিল না। চলছে চলুক। সমস্যা কী? আমি তো আর রাস্তায় কোনো মেয়ে উত্ত্যক্ত করছি না।

কিন্তু বিয়ের পর দেখা গেল সে নিজের স্ত্রীর সাথে স্বাভাবিক যৌন ক্রিয়ায় ব্যর্থ হচ্ছে কিংবা যখন স্ত্রী ঘরে থাকছে না তখন তার পর্ন দেখার প্রবল ইচ্ছা জাগ্রত হচ্ছে। আয় হায়! এমন তো হবার কথা ছিল না। আমি তো ভেবেছিলাম স্ত্রী থাকলেই সব আসক্তি হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে।

এক্ষেত্রে বিয়ে অবশ্যই সবচেয়ে কার্যকরী সমাধানের একটি। তবে আপনাকে সব ট্রিগার (যা পর্ন দেখতে বাধ্য করে) মোকাবেলা করা শিখতে হবে। এটা একদিন দুদিনে সম্ভব না। দরকার সময়, ধৈর্য আর ইচ্ছাশক্তি। খালি ঘর যদি আপনার জন্য বিয়ের আগে ট্রিগার হয়ে থাকে তা বিয়ের পরও ট্রিগার থাকবে যদি আপনি এ পরিস্থিতি আগে থেকে মোকাবেলা করার অনুশীলন না করে থাকেন।

তাই ট্রিগারগুলো খুঁজে বের করুন। কোন পরিস্থিতিতে কী করবেন আগে থেকে ঠিক করে রাখুন। ট্রিগারগুলো যত বেশি এড়িয়ে যেতে পারবেন, আসক্তির বিরুদ্ধে আপনার অবস্থান ততোই শক্তিশালী হবে। ভবিষ্যতে পর্ন দেখার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আপনি নিজেকে সহজেই দমিয়ে রাখতে পারবেন।

ধরুন, আপনি আসক্তি থেকে মুক্ত হয়ে গেলেন। এক মাস, দুই মাস পেরিয়ে বছর হয়ে গেল। আসক্তির ঝোঁক পুরোপুরি গায়েব। (অবশ্য এ ঝোঁক এক-দুমাস হলেই অনেকটা কেটে যায়)। কিন্তু এরপরও আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। হতে পারে আপনার স্ত্রী আছে। তারপরও।

ওয়ায়েল ইব্রাহিমের “Beat it” বইটিতে প্রাসঙ্গিকভাবে বেশ কিছু আসক্ত ব্যক্তির গল্প এসেছে। তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি অনেক বছর ধরে আসক্তি থেকে মুক্ত থাকার পরও হঠাৎ একদিন পর্ন দেখে ফেলেছিল। কারণ, সে গা ভাসিয়ে দিয়েছিল। মনে করেছিল, এত বছর হয়ে গেছে এখন কি আর হবে।

আসক্তি থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ট্রিগারগুলো মোকাবেলা করা এবং সারাজীবন এ ব্যাপারে সচেতন থাকা।

আমাদের পরিচিত এক ভাইয়ের কথাই বলি, তার ট্রিগার ছিল রাতে ঘুমানোর সময় মোবাইলে ওয়াইফাই কানেক্টেড থাকা। তাই সে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ওয়াইফাই কানেকশন বন্ধ রাখত। আসক্তি থেকে মুক্ত হওয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকার রাতে পর্ন জঘন্য চিন্তা মাথায় আসলেও ওয়াইফাই অন করত না। এই ছোট একটা পদক্ষেপ তাকে কয়েক মাস পর্ন থেকে মুক্ত রেখেছিল। কিন্তু একরাতে সে ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়াইফাই অন রাখে, সাথে তার ট্রিগারও অন হয়ে যায়। মাথায় আবার পর্ন দেখার প্রবল ইচ্ছা জাগ্রত হয়। কিন্তু এবার সে আর নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। যদিও সে তেমন আসক্ত ছিল না, তবে গা ভাসিয়ে দেওয়াই ছিল মূল সমস্যা। কারণ, যখনই তার পর্ন দেখতে ইচ্ছা করছিল তখন জাস্ট ওয়াইফাই কানেকশনটা বন্ধ করে দিলেই সে অনেকটা মুক্ত হয়ে যেত।

এমন আরও অনেক বিষয় আছে যা আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হলেও আসক্তির ক্ষেত্রে অনেক বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সমস্যা হলো, পর্ন আসক্তি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তির সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ পুরুষদের নারীদেহের প্রতি এবং নারীদের পুরুষদেহের প্রতি আকর্ষণ স্বাভাবিক। আর পর্ন এই সহজাত প্রবৃত্তিকেই বিকৃতরূপে উপস্থাপন করে। তাই এই আসক্তি অনেক প্রবল হয়। এক্ষেত্রে সে-ই আসক্তি থেকে মুক্ত যে সবসময় রিল্যাপস্‌ এর ব্যাপারে সচেতন থাকে। নতুন নতুন অভ্যাস গড়ে। নিজেকে ভালো কাজে ব্যস্ত রাখে। পর্নের চিন্তা মাথায় এলে কী করতে হবে না আগে থেকেই ঠিক করে রাখে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে।

ব্যাপারটা কঠিন। কিন্তু অসম্ভব নয়। আরেকটা বিষয় মনে রাখবেন,
“আসক্তি থেকে কখনোই পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়, যতক্ষণ না আসক্তিকে নতুন কোন ভাল অভ্যাস দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়।”

#teamFAD

COMMENTS

WORDPRESS: 0