আমার গল্প শুরু হয় হাই স্কুল পাশ করার পর। এসব নিয়ে তখন কথা বলতেও ভয় লাগত।
.
স্কুলের বড় ভাইদের প্রায়ই পর্ন নিয়ে কথা বলতে শুনতাম। কিন্তু আমি বুঝতাম না তারা আসলে কী বিষয়ে কথা বলছে। এসব বিষয়ে আমার তখন কোনো ধারণাই ছিল না। তারা বলত, আমাদের মতো জোস হতে হলে তোমাকে পর্ন দেখতে হবে। একটা গতানুগতিক ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, এটা সবাই দেখে, যেন স্বাভাবিক একটা ব্যাপার।
.
হাই স্কুল পাশ করার পর আমাকে একঘেয়েমি পেয়ে বসল। আমার কাছে আমার জগতটা ভালো বা জোস লাগলো না। নতুন কিছু পেতে মন চাইলো, তাই পর্ন দেখার সিদ্ধান্ত নিলাম। সত্যি বলতে, প্রথম পর্নটি আমাকে খুবই মন:ক্ষুণ্ণ করল। আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না মানুষ এত জঘন্য হতে পারে। কিন্তু আমাকে মন:ক্ষুণ্ণ করার সাথে সাথে এটা আমার মাঝে দুর্বলতাও তৈরি করেছিল। আমি ভাবলাম, এটা এতটাও খারাপ ছিল না। তখন আরও কিছু পর্ন দেখি। পরে আরও দেখতে ইচ্ছা হয়। আর এভাবে দেখতেই থাকি; ছাড়তে পারি না। একসময় এই সমস্যা বিরাট আকার ধারণ করে।
.
আমি কোনো কাজে মন বসাতে পারছিলাম না। কখন বাসায় গিয়ে পর্ন দেখবো এই চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে থাকতাম। সুযোগ পেলেই মোবাইলে পর্ন দেখতাম। রাতে সবাই ঘুমিয়ে গেলে টানা তিন-চার ঘণ্টা পর্ন দেখতাম। এই নেশা যেন শেষ হতে চাইত না।
.
আমি ক্রমেই আরও কড়া ধাঁচের পর্ন দেখতে থাকি। যেখানে আগে ভ্যানিলা পর্ন দেখতাম সেখানে রেপ পর্ন দেখতে শুরু করি। আমার আচার আচরণেও পরিবর্তন আসে। মন মেজাজ সারাক্ষণ বিরক্ত, বিষণ্ণ, খিটখিটে হয়ে থাকত। সারাক্ষণ একধরণের হতাশা, দুশ্চিন্তা এবং বিষণ্ণতায় ভুগতাম।
.
কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী আর কাস্টমারদের খারাপভাবে দেখতে লাগলাম। তাদের দিকে সারাক্ষণই তাকিয়ে থাকতাম। আশে পাশের মেয়েদের নিয়ে সেক্স ফ্যান্টাসিতে বুঁদ হয়ে থাকতাম। আমার ব্যবহার এতটা খারাপ হয়ে ওঠে যে, বাবা-মা আমার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়।
.
আমি সারাক্ষণ বিষণ্ণ থাকতাম। অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে পর্ন না দেখে ঘুমাতেই পারতাম না। আমি সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়ি, মনে হচ্ছিল আমি যে কষ্টের মধ্য দিয়ে যাছি তা আর কেউ কখনও পায়নি। একরাতে আমি আত্মহত্যা করতে নিয়েছিলাম, কিন্তু কিছু বন্ধু আমাকে আটকায় এবং সান্তনা দেয়। এতে আমি কিছুটা ভালো অনুভব করি। আর বুঝলাম আমাকে এসব ছাড়তেই হবে।
.
পরদিন রাতে আমি পর্ন না দেখে ঘুমাতে যাই, প্রচণ্ড মন চাইলেও নিজের ওপর লাগাম রাখি। যদিও সারারাত ঘুমাতে পারিনি। প্রথম দিকে সবকিছু অনেক কঠিন ঠেকছিল। আমার আগের কাজগুলো আমাকে বারবার হাতছানি দিতে থাকে। প্রচণ্ড কামনা চেপে বসলেও আমি আরও শক্ত করে নিয়ন্ত্রণ রাখতে চেষ্টা করি। সময় লাগলেও ধীরে ধীরে আমার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়তে থাকে।
.
কলেজে উঠে কিছু ভালো বন্ধুর সংস্পর্শে এসে আর কিছু ভালো ভালো বই পড়ে আমি ভীষণভাবে উপকৃত হই। আমার ঘটনা হতে বুঝা যায় সবচেয়ে নম্র ভদ্র, সাধাসিধে মানুষও আসক্তির ফাঁদে পড়তে পারে। এখনও আমার পর্ন দেখতে ইচ্ছা হয়, কিন্তু আমি এখন নিজের মনের ওপর লাগাম রাখতে পারি। ইচ্ছার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি।
.
যারা পর্ন দেখা স্বাভাবিক মনে করে তাদেরকে আমার অসুস্থ মানসিকতার মনে হয়। কারণ, পর্ন আসক্ত একজন ব্যক্তি কখনও জীবনকে উপভোগ করতে পারে না।
.
আমি নিজেই এর বাস্তব উদাহরণ।
.
অনুবাদ: #teamFAD
Newer Post
পর্নের ক্ষতি…ছড়াচ্ছে খুব দ্রুত 

COMMENTS