জীবনধারায় যে ৪টি পরিবর্তন আমাকে পর্ন ছাড়তে সাহায্য করেছিল

জীবনধারায় যে ৪টি পরিবর্তন আমাকে পর্ন ছাড়তে সাহায্য করেছিল

গত কয়েক বছর ধরে আমি পর্ন ছাড়া- আবার ধরা–এর মাঝে ঘুরপাক খেয়েছি। ২০১২ সালে আমি এক বছরেরও বেশি সময় পর্যন্ত পর্ন থেকে দূরে ছিলাম। এর পেছনে কিছু প্রাকৃতিক বিষয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে যেমন, প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে সময় কাটানো, সবজি-ফলমূল খাওয়া, মেডিটেশন করা ইত্যাদি।

কিন্তু কিছু ধারাবাহিক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার ফলে গত পাঁচ বছরে আমি বেশ কয়েকবার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। অবশেষে ২০১৬ সালের শুরু থেকে আমি আমার লক্ষ্য অর্জনে আগের চেয়ে বেশি অবিচল ও শক্তিশালী অবস্থানে চলে আসি। লক্ষ্যে পৌঁছাবার এ যাত্রা অবশ্য বেশ কঠিনই ছিল।

আমি খেয়াল করেছি পর্ন ছাড়ার পর আমার জীবনে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে যেমন দেহে বিপুল পরিমাণ শক্তি, তীক্ষ্ণ চিন্তাশক্তি, অধিক জীবনীশক্তি এবং মহিলাদের ব্যাপারে সুধারণা করা। আগে আমি নারীদের ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখতাম, পর্নে ছেলেরা মেয়েদের সাথে যেমনটা করে। কিন্তু এখন আমি নারীদের অনেক সম্মান করি। এমনকি আমার অবচেতন মনও ঠিক এমনই উত্তম রূপ লাভ করেছে।

বেশ কিছুবার আমার অবস্থা কিছুটা খারাপ হয়েছিল, তবে সেসব ঘটনা শুধু নিজেকে ভালো করার প্রতি আমার ইচ্ছাকেই বাড়িয়ে তুলেছে। যেন আমি আমার মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, আমার মন আমাকে নয়।

কিছু টিপস যা আমাকে এই অবস্থানে আসতে সাহায্য করেছে আমি সেগুলো যারা আমার মতো যারা সমস্যায় ভুগছে তাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। আশা করি এর দ্বারা তারা উপকৃত হবেন।

১। পর্ন ছাড়ার সময় আমি আরও কিছু ছেড়েছি

উদাহরণস্বরূপ, পর্ন থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি আমি মাংস খাওয়া বন্ধ রেখেছি। যার ফলে আমার কামনা-বাসনাকে তুলনামূলক কম থাকত। ফলে আমি নিজের ওপর একধরণের নিয়ন্ত্রণ অনুভব করতাম। যদি আপনি অধিক পরিমাণে খাওয়াদাওয়া করেন তার মানে হল আপনার নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ কম, তাই এমন হতে পারে আপনি পর্ন দেখা থেকেও বিরত থাকতে পারবেন না।

খাবারের প্রতি দুর্বলতাকে রোধ করুন, দেখবেন আপনার অনেক দুর্বলতা-খাহেশাত দূর হয়ে যাবে। এই ব্যাপারটা একজন ঘোড়সওয়ারের তার ঘোড়াকে নিয়ন্ত্রনে রাখার মত। আপনার দেহ-মনকে সহজে ভেঙ্গে পড়তে দেবেন না। আর শরীর নাম তো মহাশয়, যাহা সহাইবে তাহাই সয়। তাই আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে আপনার যা কিছু করা লাগে করুন।

২। প্রকৃতির প্রতি আমার ভালোবাসা ছিল

২০১২ সালে আমি সত্যিই প্রকৃতি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রেমে পড়ে যাই। কখনও কখনও এই প্রকৃতিই আমাদের প্রকৃত আর একমাত্র বন্ধু। তাই এ প্রকৃতিকে মনের গভীর থেকে ভালোবাসতে শিখেছিলাম। আমি ঘুরে বেড়াতাম, গাছপালার মাঝে সময় কাটাতাম, পাখির মধুর গান শুনতাম, নদীর ধারে বসে নদী দেখতাম, সূর্যাস্ত উপভোগ করতাম। এসব আমি একাকি করতাম। আমি পৃথিবীকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছিলাম। আর এই ভ্রমণে আমি অনেক শান্তি পেয়েছি, এসব আমাকে পর্ন থেকে দূরে রেখেছে।

৩। ট্রিগারের মোকাবিলায় সর্বশক্তি নিয়োগ করা

কখনও কখনও পরিবেশ-পরিস্থিতি আপনার জন্য খুবই কঠিন রূপ ধারণ করতে পারে। ধরুন, আপনি কোথাও খুবই সুন্দরী কোনো মেয়েকে দেখলেন। তার ছবি আপনার মনে গেঁথে গেল, আর সেটা বারবার মনে পড়ে আপনাকে বিব্রত আর প্ররোচিত করতে লাগল। ঘরে ফেরার পরেও তা আপনার মাথায় ঘুরপাক খেতে থাকল যার দরুন আপনার কাজে মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটতে লাগল।

এই খারাপ চিন্তাকে বা ট্রিগারকে সাথে সাথেই প্রশ্নবাণে জর্জরিত করুন। আমি কি মেয়েটিকে চিনি? না। এই মেয়েটি কি আমার জন্য সঠিক? না। আমি কি এই মেয়েটিকে ভালোবাসি? না। আমি মেয়েটির ব্যাপারে যেসব চিন্তা করছি, তা কি ঠিক হচ্ছে? না। তাহলে তার কথা চিন্তা করে লাভ কি? এভাবে নানান প্রশ্নের আক্রমণ করে এসব বাজে চিন্তাকে দূরে ভাগান।

পর্নও আমাদেরকে সবখানে প্ররোচিত করতে থাকে, ঘরে বাইরে, স্কুলে, অফিসে, সবখানে। মানুষকে তো মানুষ হিসেবে দেখা উচিত, আপনার ব্যবহারের বা ভোগের বস্তু হিসেবে নয়। নিজেকে কামনা-বাসনার গোলামে পরিণত করবেন না, বরং আপনি আপনার মনকে শাসন করতে শিখুন। এসব উল্টাপাল্টা, বাজে চিন্তাকে মন থেকে একদম মুছে ফেলুন। একসময় দেখবেন এসব চিন্তাকে বা ট্রিগারকে দমন করা আপনার জন্য বেশ সহজ হয়ে যাবে।

একটা খারাপ চিন্তাকে মনে জায়গা দিলে এটা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, আরও খারাপ চিন্তাকে জাগ্রত করবে, এভাবে তা আপনার পুরো মনকে নষ্ট করে ফেলবে। একটা খড়কুটাকে জায়গা দেওয়ার ফলে আরও খড়কুটা এসে জমা হবে, যেগুলোতে আগুন ধরলে সেগুলো আপনার অন্তরটাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দিবে, আর এমনটা নিশ্চয়ই আপনি চাইবেন না। মনের ওপর লাগাম রাখুন, আপনার মনকে শাসন করুন।

৪। ভালো বন্ধুদের সঙ্গে থাকা

ভালো মানুষদের সাথে বন্ধুত্ব করুন। এমন বন্ধু যারা আপনাকে জানে, আপনাকে বোঝে, আপনার ভালো চায়, ভালো দিকনির্দেশনা দেয়। কখনও কখনও আমাদের একাকীত্ব আর আমাদের খারাপ বন্ধুদের সঙ্গ আমাদের পর্ন ছাড়তে বাধা দেয়। এসব আপানকে বিভিন্ন ভুল ধারণা দেয়, যেমন, পর্ন দেখলে আমার ভালো লাগে, অন্যথায় কিছু ভালো লাগে না, পর্ন আমার একাকীত্ব, মনের দুঃখ ঘোচাবে। আমার আপনজন- কাছের মানুষ বলতে কেউ নেই, পর্ন আর তাতে দেখানো মেয়েরাই আমার আপন। এসব বাজে চিন্তা আপনার মনকে পরিচালিত করে, আপনাকে মিথ্যার ফাঁদে ফেলে। এই ফাঁদ থেকে মুক্তির জন্য আপনার আপনজন- কাছের মানুষদের কাছে টানুন, ভালো বন্ধুদের সাথে সময় কাটান। তারা আপনাকে এই যুদ্ধে জয়ী হতে সাহায্য করবে, শক্তি যোগাবে।

পরিবার ও ভালো বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক রাখুন। এই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করুন। সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে তারাই আপনার সাথী। তাদেরকে আপনার প্রয়োজন, ঠিক যেমন আপনাকে তাদের।

অনুবাদ: #teamFAD

COMMENTS

WORDPRESS: 0